রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শাস্তির মুখে লা লিগা সভাপতি
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-24T04:42:00.000Z
স্প্যানিশ ফুটবলে বিতর্ক যেন থামছেই না। দেশটির ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর লা লিগায় রেফারিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজস্ব টিভি চ্যানেলে রেফারিদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। তবে এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে আইনি লড়াইয়ে।রিয়ালের এই সম্প্রচার নীতিকে জার্মানির নাৎসি সরকারের কুখ্যাত প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করে চরম তোপের মুখে পড়েছেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। বিতর্কিত এই মন্তব্যের কারণে এখন শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি।
স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি) লা লিগা প্রধানের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তার বিরুদ্ধে দেশের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে (টিএডি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঠিয়েছে। তেবাসের মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা ও শালীনতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৬৪ বছর বয়সী তেবাস লেখেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব একদল মুখপাত্র রয়েছে এবং ক্লাবটি নিজেই এর নেতৃত্ব দেয়। তাদের কৌশল সবসময় একই—সুবিধাজনক পদক্ষেপ বাছা, অপমানের পুনরাবৃত্তি, সন্দেহ তৈরি করা ও শত্রুদের নাম প্রকাশ করা। এটি গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচার কৌশলের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
তেবাসের এমন মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি অবিলম্বে লা লিগা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে। সিএসডির মতে, স্প্যানিশ ‘ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী তেবাসের এই আচরণ গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা, অর্থদণ্ড বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি হতে পারে।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থনে পাল্টা সরব হয়েছেন লা লিগা প্রধানও। পাল্টা এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কেবল প্রচারকৌশল বোঝাতেই তিনি এই উপমা ব্যবহার করেছিলেন; রিয়াল সমর্থক বা ক্লাবের মূল্যবোধকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। একই সঙ্গে রিয়ালের টিভি সম্প্রচার নিয়ে সিএসডির নীরবতা তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন তেবাস।
তিনি বলেন, ‘রিয়ালের অফিসিয়াল টিভি যখন রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে এবং লিগ চুরি হওয়ার অভিযোগ তোলে, তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা সিএসডি চুপ থাকে কেন? প্রতিযোগিতাকে জালিয়াতি বলা কি খেলাধুলার শালীনতার ওপর আঘাত নয়? এতে কি ক্লাব, রেফারি এবং লাখ লাখ সমর্থকের ক্ষতি হচ্ছে না? নাকি এসব মূল্যবোধের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার প্রয়োজন পড়ে কেবল তখনই, যখন কেউ এমন আক্রমণের জবাব দেয়?’
সূত্র- আল জাজিরা
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম