এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ইউরোপ

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-24T03:17:00.000Z

বছরের অন্যান্য সময়ের মতো আবারও শীতকালীন সময়ে ফিরছে ইউরোপ। দীর্ঘদিন ধরে সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম নিয়ে বিতর্ক ও বাতিলের নানামুখী উদ্যোগ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে চলতি সপ্তাহের রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


ইউরোপীয় সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার রাত ৩টার সময় সময়কে পিছিয়ে রাত ২টা করা হবে। এতে করে বাসিন্দারা রাতে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর সুবিধা পাবেন। তবে এর ফলে সকালে আলো দ্রুত ফুটলেও বিকেলে বা সন্ধ্যায় অন্ধকার নেমে আসবে অনেক আগেই।


ইউরোপজুড়ে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা ঘোরানোর এই প্রথা বহু বছর ধরেই সমালোচিত। ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক অনলাইন জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশই এই নিয়ম চিরতরে বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।


জনমতের ওপর ভিত্তি করে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সময় পরিবর্তন প্রথা বাতিলের প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাশ হয়। সিদ্ধান্ত ছিল, ২০২১ সাল থেকে দেশগুলো আর ঘড়ির কাঁটা বদলাবে না।


দেশগুলো স্থায়ীভাবে ‘গ্রীষ্মকালীন সময়’ রাখবে নাকি ‘শীতকালীন সময়’ রাখবে, তা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কোনো ঐক্যমত্য হয়নি। একেক দেশ একেক সময় বেছে নিলে অভ্যন্তরীণ ট্রেন-বিমান চলাচল, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিষয়টি ইউরোপীয় নেতাদের অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।


১৯৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব তেলসংকটের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা ভেবে প্রথমে ফ্রান্সে এই পদ্ধতি চালু হয়। পরে ১৯৮০ সালে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও এটি অনুসরণ করতে শুরু করে। তবে গবেষকদের মতে, আধুনিক যুগে এসে এই নিয়মে জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় হয়ই না; বরং বারবার সময় বদলানোর ফলে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ (Biological Clock) বিঘ্নিত হয়ে ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়।


ইউরোপের বাইরের দেশ যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালেও একই দিনে সময় পরিবর্তন হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সময় পরিবর্তন করবে ১ নভেম্বর। অন্যদিকে মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে বর্তমানে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এই নিয়ম নেই।


স্থায়ী কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের বাসিন্দাদের আপাতত আগের নিয়মেই বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করে দিন চালাতে হবে।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম