শখের গোখরার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ইকবাল

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-23T11:02:00.000Z

শখ করে বাড়িতে পুষতেন বিষধর গোখরা সাপ। মাছ ধরার জালে আটকে থাকা সাপটি উদ্ধার করে প্রায় তিন মাস আগে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। নিয়মিত খাবার হিসেবে দিতেন মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার। পরিবারের সদস্যরা বারবার নিষেধ করলেও সাপটি পোষা বন্ধ করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই শখের সাপের কামড়েই এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ইকবাল।

সম্প্রতি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন ইকবাল। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। পরে অসহ্য যন্ত্রণার কথা স্ত্রী রিনা আক্তারকে জানান তিনি। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ ছিল তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন রিনা। কিন্তু স্বামী তার কথা শোনেননি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার স্বামী।

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেনও জানান, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে কারও কথা শোনেননি তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে খাবার দিতে গিয়ে সেটির কামড়ের শিকার হন।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. সাবিন ইশতিয়াক বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাত ফুলে গিয়েছিল। উপসর্গ দেখে বিষধর সাপের কামড়ের বিষয়টি বোঝা যায়। দ্রুত তাকে পর্যবেক্ষণে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। তবে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চিকিৎসক সাবিন ইশতিয়াক বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনা মূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।

ইকবালের স্ত্রী জানান, সাপটি পরে স্থানীয় লোকজন মেরে ফেলেছেন। যে প্রাণীটিকে শখ করে বাড়িতে এনেছিলেন ইকবাল, সেটিই এখন তার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিষেধ উপেক্ষা করে বিষধর সাপ পোষার পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম