সমুদ্রে ফিরতে নারাজ দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সেলিব্রিটি হাঙ্গর’ বুকানজি
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-22T13:49:00.000Z
দীর্ঘ আট ঘণ্টার এক ক্লান্তিকর উদ্ধার অভিযানের পরও সমুদ্রে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা তিন মিটার দীর্ঘ একটি মাদী ‘ডাস্কি শার্ক’ (Dusky Shark)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হওয়া এই হাঙ্গরটিকে স্থানীয়রা ভালোবেসে ‘বুকানজি’ নামে ডাকেন। গত বুধবার (২১ অক্টোবর, ২০২৬) বুসান শহরের একটি সংকীর্ণ কৃত্রিম খাল থেকে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেটিকে তাড়িয়ে উন্মুক্ত সমুদ্রে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হন। কিন্তু রাতারাতি নিরাপত্তা বেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে হাঙ্গরটি ডুব সাঁতারে আবারও সেই খালের জলপথেই ফিরে আসে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে এই একগুঁয়ে জলচর প্রাণীটিকে খাল থেকে স্থায়ীভাবে দূরে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।গত ১৮ সেপ্টেম্বর উষ্ণমন্ডলীয় জলবায়ুর এই হাঙ্গরটিকে প্রথমবার দেখার পর থেকেই এটি বুসানের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়। বুসানের উত্তর বন্দরের (Bukhang) নামানুসারে নাম রাখা ‘বুকানজি’কে দেখতে স্থানীয় ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এ পর্যন্ত ১৬ লক্ষাধিক দর্শনার্থী ভিড় করেছেন এবং সেটিকে শহরের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘ম্যাসকট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং সনাতন জাল ব্যবহার করে হাঙ্গরটিকে সরানোর দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তবে বুধবারের সফল অভিযানে একটি বিশাল ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, ড্রোন, ডুবুরি এবং খালের পাড়ে দড়ি ধরে থাকা ডজন খানেক কর্মীর যৌথ প্রচেষ্টা কাজ করেছিল। বিদায়ের সময় শত শত উৎসুক জনতা করতালির মাধ্যমে হাঙ্গরটিকে বিদায় জানালেও, রাতের অন্ধকারে এটি একটি জাল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। আজ সকালে ভেতরের ও বাইরের জালের মাঝে আটকা পড়া হাঙ্গরটিকে মুক্ত করতে উদ্ধারকর্মীরা বাইরের জালটি সরিয়ে নিলেও, সেটি গভীর সমুদ্রে না গিয়ে এখনও বন্দরের মুখে চক্কর কাটছে।
স্থানীয় ভক্তরা বুকানজির চলে যাওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও খালের মুখে বিক্ষোভ করলেও, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মহাসমুদ্র ও মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, হাঙ্গরটির বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, কৃত্রিম খালে অবস্থানকালে গত এক মাসে হাঙ্গরটির কোনো খাবার গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, কংক্রিটের দেয়ালে ক্রমাগত আঘাতের ফলে হাঙ্গরটির নাক রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। সর্বোপরি, সামনে নভেম্বর মাস চলে আসায় পানির তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা উষ্ণ পানির এই প্রাণীর জন্য মারাত্মক প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ঋতু বহির্ভূত উষ্ণ পানি এবং প্রচুর মাছের উপস্থিতির কারণে হাঙ্গরটি এই নগরীর কৃত্রিম জলাশয়ে চলে এসেছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং খালের মুখে জালগুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে এই সেলিব্রিটি হাঙ্গরটি শেষ পর্যন্ত আশাহত হয়ে নিজের আসল নীড়ে ফিরে যায়।
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম