লালমনিরহাটে পুলিশের বাঁধায় পন্ড নির্মান শ্রমিকদের সমাবেশ

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-22T12:03:00.000Z

জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুমতি নিয়েও পুলিশী বাঁধায় পন্ড হয়েছে লালমনিরহাটের নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সমাবেশ। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মেহনতি মানুষের এ সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলন। 
বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ের পলাশী হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। 
নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন লালমনিরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জহুরুল হক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন গড়ে উঠে এবং সরকারী ভাবে নিবন্ধনভুক্ত(নং বি-২২০৯) হয়। নিবন্ধিত এ সংগঠনটির লালমনিরহাট জেলা ও সকল উপজেলা কমিটি গঠিত হয়। নব গঠিত সদর উপজেলা কমিটির পরিচিত সভা করতে বিধিমত গতকাল ২১ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়ন ভাড়া নেয়া হয়। সভায় উপস্থিত থাকতে জেলা পুলিশ সুপারকে অনুমতিসহ দাওয়াতপত্রও প্রদান করা হয়। পুর্ব ঘোষিত কর্মসুচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনটির পরিচিত সভা হওয়ার কথা ছিল। যার জন্য প্রচারনাসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। 
কিন্তু অজ্ঞাত কারন দেখিয়ে হঠাৎ বৃহস্পতিবার সকালে ওই মিলনায়তনে কোন ধরনের সভা সমাবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা জানায় পুলিশ। যৌতিক কোন কারন জানাতে না পারলেও পুলিশ কাউকে সভাস্থলে ভিড়তে দেয়নি। কার্যত অজ্ঞাত কারনে পুলিশের নগ্ন থাবায় আমাদের মেহনতি মানুষের শান্তিপুর্ন সমাবেশটি পন্ড হয়। উপর মহলের চাপে পুলিশ বাঁধা দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি। 
একটি প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সভাপতি জহুল হক বলেন, কেন্দ্রীয় ভাবে আমাদের সংগঠনটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় সারাদেশের সকল শাখা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কিন্তু সরকার দলীয় একটি সংগঠন আমাদেরকে তাদের ব্যানারে আসার দাবি জানালে আমরা অস্বীকৃতি জানাই। এটাই আমাদের কাল হয়ে দাড়ায়। তারা হয়তো আমাদেরকে দলে নিতে ব্যর্থ হয়ে আমাদের শান্তিপুর্ন সভা পুলিশ দিয়ে পন্ড করেছে। আমাদের সংগঠন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলেও নেতাকর্মীরা সকল দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুলিশ বাহিনী আর প্রশাসনের এ নগ্ন থাকার তীব্র প্রতিবাদসহ নিন্দা জানাই। 
সংগঠনটির সম্পাদক শাহজাহান আলী এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, মেহনি মানুষের এ সংগঠনের কাছে ৫হাজার টাকা ভাড়া নিয়েও সেই মিলনায়নে প্রবেশ করতে দেয়নি প্রশাসন। গরিবের ঘাম ঝড়া টাকাও প্রশাসন কৌশলে আত্নসাৎ করলো। আমরা এর দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি চাই। 
জেলা পরিষদ মিলনায়ন ঠিকাদার(পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত) ময়নুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনকে মিলনায়ন ভাড়া দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শ্রমিক দলের লোকজন এসে বলেছে তারা এ সংগঠনে নেই এবং সভা হলে ঝামেলা হতে পারে। তাই আমি ভাড়াটেদের বলেছি পুলিশের অনুমতি নিতে। তারা অনুমতি না পেয়ে সভা করেনি। 
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, সমাবেশ করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন হলেও তারা তা করেনি। এ ছাড়াও তাদের সাথে সাংগর্ষিক অপর একটি সংগঠন একই স্থানে জমায়েত হওয়ার একটি গোপন খবর ছিল। এ কারনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সভা সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম