ফোনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয় ‘রিস্টার্ট’

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-20T05:35:00.000Z

স্মার্টফোনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা সাধারণত প্রথমেই সেটি রিস্টার্ট করি। তবে জানেন কি, ফোনের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখার পাশাপাশি এই অভ্যাস সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ‘এসএসএ’-ও স্মার্টফোনের নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ হিসেবে নিয়মিত ফোন বন্ধ করে আবার চালু করার কথা বলেছে। খবর ফ্রান্সের বিখ্যাত প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যম ফুতুরার। 


কয়েক বছর আগে ‘এনএসএ’ আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড; উভয় ধরনের স্মার্টফোনের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখানে নিয়মিত ফোন বন্ধ করে আবার চালু করার পরামর্শ দেয়া হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ফোনে সক্রিয় থাকা কিছু ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের কার্যক্রম ব্যাহত করা।

বর্তমানে স্মার্টফোন সাইবার অপরাধী থেকে শুরু করে রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদেরও অন্যতম লক্ষ্য। এসব হামলার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেয়া হতে পারে।

এর একটি আলোচিত উদাহরণ হলো পেগাসাস স্পাইওয়্যার। ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের তৈরি এই নজরদারি সফটওয়্যার বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য গ্রাহকের ব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোনে নজরদারির অভিযোগের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ফোনও পেগাসাস-সংক্রান্ত নজরদারির সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে আলোচনায় এসেছিল।

এর মূল কারণ হলো স্মার্টফোনের ‘র‌্যাম বা অস্থায়ী মেমোরি। কিছু ধরনের ম্যালওয়্যার ফোনের স্থায়ী স্টোরেজে ফাইল হিসেবে সংরক্ষিত না থেকে মূলত র‌্যামে সক্রিয় থাকে। এ ধরনের ম্যালওয়্যার ফোন রিস্টার্ট করলে সাধারণত মেমোরি থেকে মুছে যায় এবং তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এভাবে কাজ করা ম্যালওয়্যার ডিভাইসে স্থায়ী চিহ্ন না রাখার কারণে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে সব ম্যালওয়্যার একইভাবে কাজ করে না। কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনের স্টোরেজে স্থায়ীভাবে ইনস্টল হয়ে থাকলে, শুধু রিস্টার্ট করলেই সেটি দূর হবে না।

স্মার্টফোনের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক সাইবার হুমকিগুলোর একটি হলো জিরো-ক্লিক ম্যালওয়্যার। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে বা ফাইল ডাউনলোড করতে প্রলুব্ধ করা হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কোনো ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াই ডিভাইস আক্রান্ত হতে পারে।

এ ধরনের হামলায় সাইবার অপরাধীরা মেসেজিং অ্যাপ, কলিং সেবা কিংবা অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটিকে কাজে লাগাতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও ফোনে অননুমোদিত প্রবেশ বা নজরদারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অবশ্য শুধু রিস্টার্ট করলেই ফোন নিরাপদ হয়ে যায় না। এটি ম্যালওয়্যারের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা দেয় না। ফোনের নিরাপত্তা বাড়াতে আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরি:

নিয়মিত রিস্টার্ট করুন: ফোনে সক্রিয় থাকা কিছু অস্থায়ী ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বন্ধ হতে পারে।
অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখুন: নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের জন্য আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ প্রাইভেসি আপডেট ইনস্টল করুন।
অ্যাপ আপডেট করুন: অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে থাকা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলা চালানো হতে পারে।
সন্দেহজনক লিংক ও ফাইল এড়িয়ে চলুন: পরিচিত কারও কাছ থেকে এলেও অপ্রত্যাশিত লিংক বা ফাইল যাচাই না করে খুলবেন না।
বিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করুন: অজানা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই ভালো।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম