চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় দক্ষিণ বিভাগের চকবাজার ও কোতোয়ালি থানার পৃথক দুটি অভিযানে পরিচালনা করে।
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-19T15:15:00.000Z

*সিএমপির কোতোয়ালি থানা কর্তৃক মোটর সাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে চোরাইকৃত আরো ৮ (আট) টি মোটর সাইকেল উদ্ধার এবং চোর চক্রের ০১ সদস্য গ্রেফতার*
কোতোয়ালী থানার অভিযান:
সিএমপির কোতোয়ালি থানার একটি আভিযানিক দল গত ১২/১০/২০২৬ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানাধীন কাঠের বাংলো এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. সুমন (৩০)-কে গ্রেফতার করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজন আসামিসহ মোট ৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার মামলা নং- ৪২, তারিখ- ১৪/১০/২০২৬ ইং, ধারা- ৪১১ পেনাল কোড রুজু হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী একটি আভিযানিক টিম গত ১৭/১০/২০২৬ ইং তারিখে দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল দুটি হলো: ৭। ০১ টি Honda Hornet 150 cc বাইক ৮। ০১টি Honda CB sine উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোর চক্রের অন্যতম সক্রিয় মোঃ ইমরান হোসেন (২৮),পিতা-মৃত-সফিউল আলম, মাতা-আশরাফুন নেছা,
স্ত্রী- রাহেনা আকতার, সাং-গফিনাথ পুর,লাল মিয়া মৌলি বাড়ী, ১নং ওয়ার্ড,পোঃ-জোড়ারগঞ্জ, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে- ওসানভিউ আবাসিক হোটেল, ৪২০ কক্ষ, থানা-পাহাড়তলী, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো হলো: ৯। ১ টি Apache RTR 150 cc বাইক, ১০। একটি hero Honda hornet 150 cc, ১১। ১ টি Hero Honda hunk 150 cc, ১২। ০১ টি zixer monoton 150 cc মোটরসাইকেল। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেলার চরজব্বর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-৪(১০)২৬-এর চুরি হওয়া ১৩। একটি গ্লামার ১১৫ সিসি বাইক উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৪। ১ টি Bajaj pulsar ১৫০সিসি বাইক উদ্ধার করা হয়। সর্বমোট ১৪ টি বাইক উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ ইমরান হোসেন (২৮) বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম এর জোরারগঞ্জ থানার মামনা নং-১৭, তারিখ- ৩০/০৮/২০২৫খ্রি; ধারা- ৩৭৯ পেনাল কোড বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
*চকবাজার থানার অভিযান:
বাদীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ০৭/১০/২০২৬ ইং তারিখ বিকেল ০৪:৩০ ঘটিকায় বাদীর বোন আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) তার জায়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে বাদীর স্ত্রী সাবরিনা আক্তার ও বাদীর মায়ের কাছ থেকে মোট ০৮ ভরি ৮ আনা ওজনের সোনার তৈরি বিভিন্ন ধরনের অলংকার নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামি উক্ত অলংকারগুলো বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে এবং আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে চকবাজার থানার এফআইআর নং-১৪, তারিখ-১৮/১০/২০২৬খ্রি, ধারা-৪২০/৪০৬ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
মামলার রুজুর পরপরই চকবাজার থানার একটি আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮/১০/২০২৬ইং তারিখ দুপুর ১৩:৩০ ঘটিকায় নগরীর খুলশী থানাধীন বাগঘোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় আসামি লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬), পিতা-নুরুল ইসলাম, স্বামী-জাহেদুল ইসলাম ডালিম, সাং-আনিছ বাড়ী, গাটিয়াডাঙ্গা, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম; বর্তমান ঠিকানা-৫ম তলা, ইফকো এমআর টাওয়ার, সলিমা সিরাজ মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার পাশে, জামালখান, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারগুলো কোতোয়ালী থানাধীন দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত 'নোভা জুয়েলার্স' নামীয় দোকানের ম্যানেজার শুভ মজুমদার (৩৬), পিতা-প্রণব মজুমদারের নিকট বিক্রি করেছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোকানের ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন যাবৎ আসামী ও তার পরিবার, তাদের কাছে পুরাতন ও নতুন স্বর্ণ ক্রয় বিক্রয় এবং পরিবর্তন করার মাধ্যমে পূর্বপরিচয়ের কারণে বিক্রেতার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে তিনি স্বর্ণালংকারগুলো ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ক্রয়কৃত স্বর্ণ গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার তৈরি করা হয়। অভিযানকালে দোকানের ম্যানেজার শুভ মজুমদারের উপস্থাপন এবং গ্রেফতারকৃত আসামির শনাক্তমতে ০৩টি স্বর্ণের আংটি ও ০২টি কানের দুল, ০৯ স্বর্ণের আংটি, ০১টি স্বর্ণের হাতের বালা, ০৩টি স্বর্ণের গলার চেইন এবং ০৩ জোড়া স্বর্ণের কানের অলংকারসহ মোট ০৫ ভরি ০১ রতি ০১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য অনুমান ১১ লক্ষাধিক টাকা। আত্মসাৎকৃত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম