মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি: গল্প থেকে বাস্তবের পথে!
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-19T07:32:00.000Z
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টার ঘিরেও আলোচনায় এসেছে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা। কিন্তু গাড়ি কি সত্যিই আকাশে উড়তে পারবে? এ ধরনের গাড়ির দাম কেমন হবে? আর সাধারণ মানুষ কবে চড়তে পারবে এমন গাড়িতে? সেসবের বিস্তারিত চলুন জেনে নিই।
কী চমক দেখাল মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি?
২০১৮ সালে একটি পডকাস্টে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছিলেন, স্পেসএক্স-এর রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড়তে সক্ষম রোডস্টার গাড়ি তৈরি করতে চান তিনি। আট বছর পর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্স-এর একটি কেন্দ্রে প্রদর্শনীতে নতুন মডেলের একটি রোডস্টার গাড়িকে বাতাসে উঠে ডিগবাজি খেয়ে আবার নিরাপদে নেমে আসতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করে মাস্ক বলেন, ভবিষ্যতে সত্যিই উড়ন্ত গাড়ি থাকবে।
তবে গাড়িটির এই সক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রদর্শিত হলেও সাধারণ রাস্তায় এর ব্যবহার কতটা নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত হবে, তা এখনো প্রমাণিত নয়। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়িটি ২০২৮ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে; তবে বাজারে আসা মডেলে রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তি থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
টেসলা রোডস্টার কি সত্যিই উড়বে?
সিনেমা বা সায়েন্স ফিকশনে উড়ন্ত গাড়ির দেখা মিললেই এ ধরনের গাড়ি তৈরির চেষ্টা চলছে বহু বছর ধরে। ইলন মাস্কের পরবর্তী প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ, এতে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির আদলে থ্রাস্টার ব্যবহারের সম্ভাবনা। এই প্রযুক্তিতে উচ্চচাপের গ্যাস বের করে বিপরীত দিকে ধাক্কা তৈরি করা হয়। এতে গাড়ির গতি বা সাময়িকভাবে ওপরে ওঠার মতো বিশেষ কৌশল সম্ভব হতে পারে।
গাড়িকে সাময়িকভাবে ওপরে তোলা আর উড়োজাহাজের মতো নিয়ন্ত্রিতভাবে দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়া এক নয়। রোডস্টারকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি বলার মতো সক্ষমতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
উড়ন্ত গাড়ির ধারণা কত পুরনো?
উড়ন্ত গাড়ির স্বপ্ন আজকের নয়। ১৯১৭ সালে মার্কিন উদ্ভাবক গ্লেন কার্টিস তৈরি করেন কার্টিস অটোপ্লেন। গাড়ি ও উড়োজাহাজের বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে যুক্ত করার এটি ছিল প্রথম দিককার উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।
তবে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উড়তে পারেনি। ১৯৪৯ সালে আসে টেলর অ্যারোকার। এটি সড়কে চলার পাশাপাশি উড়তেও পারত। কিন্তু বেশি খরচ, জটিল পরিচালনব্যবস্থা এবং সীমিত ব্যবহারিক সুবিধার কারণে উড়ন্ত গাড়ি সাধারণ মানুষের বাহন হয়ে উঠতে পারেনি।
কী প্রযুক্তিতে উড়বে গাড়ি?
বর্তমানে উড়ন্ত গাড়ির ধারণায় দুটি প্রযুক্তি বেশি আলোচিত। প্রথমটি, ডানা ও প্রপেলারযুক্ত যান। এটি গাড়ি হিসেবে রাস্তায় চলতে পারে, আবার ডানা ব্যবহার করে উড়তেও পারে।
দ্বিতীয়টি হলো ইভিটিওএল, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং। সহজ ভাষায়, হেলিকপ্টারের মতো সোজা ওপরের দিকে উঠে আবার নিচে নামতে পারে এমন বৈদ্যুতিক যান। এতে একাধিক মোটর ও প্রপেলার থাকে। কম্পিউটার ও সেন্সর যানটির ভারসাম্য এবং গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ব্যাটারির শক্তি, উড্ডয়নের সময় এবং যাত্রী বহনের সক্ষমতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
বাজারজাত করতে বাধা কোথায়?
উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করলেই হবে না, সেটিকে নিরাপদে চালানোর ব্যবস্থাও থাকতে হবে। আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে জরুরি অবতরণের সুযোগ সীমিত। পাশাপাশি প্রয়োজন বিশেষ অবতরণস্থল, প্রশিক্ষিত চালক, আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, খরচের তুলনায় এই যান কতটা কার্যকর হবে? ব্যক্তিগত গাড়ির মতো প্রত্যেকের বাড়িতে একটি উড়ন্ত যান থাকলে শহরের আকাশে যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দাম কত, আর ভবিষ্যৎ কী?
উড়ন্ত যান যে এখন আর নিছক কল্পনা নয়, তার উদাহরণ জেটসন ওয়ান। এটি একটি ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক উড্ডয়নযান, যার ঘোষিত প্রারম্ভিক দাম ছিল প্রায় ৯৮ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
তবে এটি প্রচলিত গাড়ি নয় এবং এর দামকে সব ধরনের উড়ন্ত গাড়ির দাম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নিকট ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত যাতায়াতের চেয়ে এয়ার ট্যাক্সি, জরুরি চিকিৎসা পরিবহন এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করতে হলে ব্যাটারি, নিরাপত্তা এবং পরিচালনব্যবস্থায় আরও অগ্রগতি প্রয়োজন।
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম