ইয়ামালের দুর্দান্ত গোল, বার্সার টানা জয়ের রেকর্ড

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-18T01:41:00.000Z

লা লিগায় বার্সেলোনার জয়রথ ছুটছেই। হান্সি ফ্লিকের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনা শনিবার (১৭ অক্টোবর) ১০ জনের রিয়াল বেটিসকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগার শীর্ষে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখেছে।

 

স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে দুর্দান্ত একটি গোল করেছেন তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে এ ছাড়াও রদ্রি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এরিক গার্সিয়া ও দানি ওলমো গোলের দেখা পেয়েছেন।

 

টানটান উত্তেজনার ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন বেটিসের ফাকুন্দো বার্নাল। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তৃতীয় স্থানে থাকা দলটিকে।

 

লিগ মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। পাশাপাশি ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া টানা নয় জয়ের সর্বকালের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে তারা।

 

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্লিকের দল জিতেছে টানা ১১ ম্যাচ।

 

এদিন আরেক ম্যাচে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ শেষ মুহূর্তের গোলে এস্পানিওলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। ফলে বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। বেটিস পিছিয়ে আট পয়েন্টে। চতুর্থ স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ রোববার (১৮ অক্টোবর) সেভিয়ার মুখোমুখি হবে।

 

বুধবার (২১ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্দের বিপক্ষে ম্যাচের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ইসকোসহ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিল বেটিস। তবে তাতেও বার্সেলোনাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল।

 

ম্যাচের ১০ মিনিটেই দুর্দান্ত গোলে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। বক্সের কিনারায় বার্নালকে কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি।

 

আক্রমণে বার্সেলোনা দুর্দান্ত হলেও ফ্লিকের অধীনে দলটির রক্ষণভাগের দুর্বলতা আবারও সামনে আসে। ৩০ মিনিটের আগেই সমতায় ফেরে বেটিস।

 

কর্নার থেকে আসা বল বক্স পেরিয়ে গেলে তা আবার নিজেদের দখলে নেন পাবলো ফোরনালস। তার ক্রসে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জাভি এসপার্টকে পেছনে ফেলে হেডে গোল করেন ভ্যালেন্তিন গোমেজ।

 

এরপর কর্নার থেকে হেডে বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে দেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার রদ্রি। স্বাগতিকদের হয়ে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরানোর আনন্দে মেতেছিলেন জিওভানি লো সেলসোও। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে কুচো হার্নান্দেজের হাতে বল লাগায় তার গোল বাতিল হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয় বেটিস শিবির।

 

দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় ইয়ামালের পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনার ব্যবধান বাড়ান জেসুস। এর ঠিক আগেই অফসাইডের কারণে তার আরেকটি গোল বাতিল হয়েছিল।

 

এরপরই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের শুরু। এজ আবদে গোল করে বেটিসের হয়ে ব্যবধান কমান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখেন বার্নাল। দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অংশ হওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন ইয়ামালও।

 

এরিক গার্সিয়ার গোলে ব্যবধান আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। পাউ কুবার্সির হেডে বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে পাঠান গার্সিয়া।

 

চলতি মৌসুমে এটি অষ্টম ম্যাচ, যেখানে ফ্লিকের দল চার বা তার বেশি গোল করেছে।

 

ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। তাকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান ফ্লিক। পরের সপ্তাহে এল ক্লাসিকোর আগে সম্ভাব্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইয়ামালকে তুলে নেন তিনি।

 

ম্যাচের শেষ দিকে বেটিসের রক্ষণভাগ কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করে বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত করেন বদলি খেলোয়াড় দানি ওলমো।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম