নবজাতকের বিরল টিউমার, অস্ত্রোপচারে সফলতা পেলেন শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-17T07:46:00.000Z

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নবজাতকের মাথার খুলির নিচের অংশ, মুখের তালু, উপরের চোয়াল ও ঠোঁটের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ হয়েছে। হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান এই অস্ত্রোপচারটি করেন।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নবজাতকের নাম মো. সাইমন। তার বয়স ২৩ দিন। গত ১৪ অক্টোবর ২০ দিন বয়সি ওই শিশুর মা-বাবা তাকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে নিয়ে আসেন।

 

শিশুটির মা-বাবার কাছ থেকে জানা যায়, জন্মের পরপরই তারা শিশুটির মুখের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা হাতের মতো দেখতে একটি টিউমার দেখতে পান। টিউমারটি শিশুর তালু, ওপরের চোয়াল ও ঠোঁটের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

 

টিউমারটির কারণে শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। মুখের টিউমারের ফাঁকে সামান্য জায়গা দিয়ে চামচের সাহায্যে তাকে খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল। একই সঙ্গে টিউমারটি শিশুটির স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসেও বাধা সৃষ্টি করছিল।

 

এই সমস্যার সমাধানের জন্য শিশুটির পরিবার প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। টিউমারটির বিরল প্রকৃতি, অস্ত্রোপচারের জটিলতা এবং শিশুটির অতি অল্প বয়স বিবেচনায় পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়।

 

নবজাতকে শিশু হাসপাতালে আনার পর নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শিশুটির বয়স কম এবং টিউমারটি মুখের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে থাকায় অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান ডা. আখতার হোসেন লোবানের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের সময় মাথার খুলির নিচের অংশ থেকে উৎপন্ন হয়ে মুখের তালু ভেদ করে উপরের চোয়াল ও ঠোঁটের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাতসদৃশ টিউমারটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়। শিশুটির ঠোঁটের দুই পাশের বিভক্ত অংশও জোড়া লাগানো হয়েছে।

 

অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চিকিৎসা প্রক্রিয়া ছিল। আমাদের চিকিৎসক দল, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।’

 

শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিউমারটি মুখের অধিকাংশ স্থান দখল করে থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে শ্বাসনালি ব্যবস্থাপনা করা কঠিন ছিল। অস্ত্রোপচার শেষে অ্যানেস্থেশিয়াজনিত কোনো জটিলতা ছাড়াই শিশুটিকে অজ্ঞান অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর অপসারিত টিউমারটি হিস্টোপ্যাথোলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর টিউমারের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম