অপরিকল্পিত নগরায়ণে কমছে আবাদি জমি

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-16T06:56:00.000Z

অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে। দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় জনবলসংকট, খাদ্যে ভেজাল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে ক্ষুদ্র পরীক্ষাগার স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত ও নজরদারির জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, জনবলসংকট, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সচেতন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার জনবলসংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য রয়েছে।

এ অবস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি। জনবলসংকট দূর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে বৈঠকে আশা করা হয়।


অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে বলে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে জমির অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কমিটির আলোচনায় কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।


ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, কমিটির সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম