সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-15T16:36:00.000Z

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ রুখতে দিল্লি অবরুদ্ধ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়া হলফনামায় তিনি বলেছেন, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়নি। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও অশান্তি এড়াতে যাবতীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। খবর এএনআই-এর।

কোনও আন্দোলন ঠেকাতে জনজীবন স্তব্ধ করা যায় না’ বলে সুপ্রিম কোর্ট ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ-প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের দিন দেখা যায়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। ২৪০টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। এর ফলে রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন ১০ অক্টোবর পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার, মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশের জবাবে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

নোটিশের জবাবে গোবিন্দ মোহন জানান, ১০ অক্টোবর প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সিজেপি বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০ জুলাই এদের ডাকেই দেশের যুব সম্প্রদায় ‘পার্লামেন্ট চলো’ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আন্দোলন সহিংসতা ছড়িয়েছিল। অনেকে আহত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ১০ অক্টোবর পুলিশ কড়াকড়ি করে।

তবে তিনি জানান, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলসের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে শুধু সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওয়াইফাই ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু ছিল।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারও সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করেন। তাতে বলা হয়, গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্য বিবেচনা করে এবং পরিস্থিতি বিচার করে দিল্লি পুলিশ সাবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, দিল্লি দেশের রাজধানী। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে যে সংগঠনের ডাকে আগে অশান্তি হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। ২০ জুলাইয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে পুলিশ। তাই ১০ অক্টোবর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। পুলিশি হলফনামায় বলা হয়, ১০ অক্টোবর আটক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। চা, কফি, খাবার দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর সবাইকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। আটক করা রাজনীতিবিদদের সম্মানহানি হয়, এমন কিছু করা হয়নি।

বিরোধী দলের অভিযোগ অবশ্য ভিন্ন। যুব, ছাত্রদের অভিজ্ঞতাও পুলিশি দাবির সঙ্গে মানানসই নয়। বরং পুলিশি অত্যাচারের বহু অভিযোগ তারা করেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত বুধবার অত্যাচারিত তরুণ-তরুণীদের সংবাদ সম্মেলনে হাজিরও করেছিলেন। পুলিশি অত্যাচারের অনেক ভিডিও–ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষও হলফনামা জমা দেয়। তারা বলেছে, ১০ অক্টোবর মাত্র ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল সব দিক বিবেচনা করে। পুলিশের কথা শুনেই ওই ব্যবস্থা নিতে হয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, দিল্লি মেট্রোর তিন শতাধিক স্টেশনের মধ্যে ওই ৪৫ স্টেশন বন্ধ রাখা হলেও মেট্রো পরিষেবা চালু ছিল।

ওই আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের একাংশ মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে তারও শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পুলিশকে সব ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে তার নির্দেশ, যে সাংবাদিকেরা পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ববস্থা যেন না নেয়া হয়।

দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম