ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে তেল সরবরাহ কৌশল শিখেছে আরামকো
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-15T16:22:00.000Z
ইয়েমেনের ইরান-পন্থী হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখেও বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এক অনন্য এবং অতি-দ্রুত সাড়াদানকারী যুদ্ধকৌশল তৈরি করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে ধাহরানে আরামকোর বহুতল সদর দপ্তরে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিইও আমিন নাসেরের অফিসসহ ওপরের তিনটি তলা ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির মাঠপর্যায়ের তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম এক চুলও ব্যাহত হয়নি। মূলত ২০১৯ সালে আবকাইক শোধনাগারে বড় ধরনের হামলার পর থেকেই আরামকো তাদের কৌশল পরিবর্তন করে ‘জিরো-আওয়ার রেসপন্ডার্স’ বা বিশেষ আপদকালীন দ্রুত সাড়াদানকারী দল গঠন করেছে—যারা কোনো স্থাপনায় আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থাতেই ড্রোন পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই মেরামতের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এছাড়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ৯০ শতাংশ খুচরা যন্ত্রাংশ নিজস্ব ও স্থানীয় গুদামে মজুত রাখা এবং লোহিত সাগরের বিকল্প রুট ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের (ship-to-ship transfers) মাধ্যমে আরামকো তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ছয় গুণ দ্রুততর করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ড্রোন হামলায় তাদের প্রধান ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও, এই অভূতপূর্ব যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কারণেই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন দৈনিক ৮.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করে ওপেক (OPEC) জোটের মধ্যে সর্বোচ্চ তেল সরবরাহের রেকর্ড ধরে রেখেছে সৌদি আরব।দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম