প্রধান শিক্ষকের কক্ষে স্কুলশিক্ষিকাকে বিএনপি নেতার থাপ্পড়, ভিডিও ভাইরাল
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-15T07:47:00.000Z
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষেই এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিড়নাল উচ্চবিদ্যালয়ে এ অঘটন ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আবজাল মোল্লা, যিনি দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অন্যদিকে ভুক্তভোগী একরামুন্নেছা বিউটি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ঘটনাটির প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আবজাল মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন দপ্তরিকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে বিএনপি নেতা আবজাল মোল্লা, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জাকির হোসেনসহ তিনজন সদস্য এবং কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে কিছুদিন আগে একরামুন্নেছা বিউটি বাজে মন্তব্য করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা আবজাল মোল্লা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষিকার ওপর চড়াও হন। এ সময় প্রধান শিক্ষকও বিউটির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একরামুন্নেছা বিউটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে আবজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধ হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে তাকে অপমান ও মারধর করা হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষকেরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও গালিগালাজ করেন আবজাল মোল্লা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কয়েকজন শিক্ষক ও অন্য ব্যক্তিরা বসে আছেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবজাল মোল্লাকে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে মারধর করতে দেখা যায়।
একরামুন্নেছা বিউটি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৪ থেকে ১৫ বছর কমিটিতে ছিলেন- এমন কথা বলে তাকে চোর আখ্যা দেয়া হয়। বর্তমানেও বিএনপি নেতার কথায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদ করায় সবার সামনে তাকে তিনটি থাপ্পড় মারা হয়। আবজাল মোল্লা তাকে প্রায়ই ধমক দিতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এই শিক্ষক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আফজাল মোল্লা বলেন, তাকে নিয়ে ওই শিক্ষক বাজে মন্তব্য করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে একটি থাপ্পড় দিয়েছেন। কাজটি ঠিক হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন বলেন, ওই শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবজাল মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিক নুর আলম বলেন, বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে, তার সামনে বাইরে থেকে এসে একজন শিক্ষককে মারধরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম