হোপের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভারতকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-14T18:32:00.000Z
এক প্রান্তে শাই হোপের ব্যাটে ছক্কার ঝড়, অন্য প্রান্তে কেমো পলের আগুনে বোলিং। দুজনের দাপটে ভারতের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ২৪৭ রানের পাহাড় গড়ার পর পলের পাঁচ উইকেটে ভারতকে আটকে দিল ২২৩ রানে। তাতে ২৪ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের উত্তেজনা নিয়ে গেল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।বুধবার (১৪ অক্টোবর) হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টটোবর) জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। প্রথম ম্যাচে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তৃতীয়টিতে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-২ সমতা ফেরাল হোপের দল। শনিবার বেঙ্গালুরুতে হবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।
টসের পর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হোপ। ৫০ বলে ১০২ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার। হোপের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি হোপের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে সর্বোচ্চ শতকের মালিকও হয়েছেন তিনি। এত দিন দুটি করে সেঞ্চুরি নিয়ে তার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ক্রিস গেইল ও এভিন লুইস। মজার ব্যাপার, হোপের আগের দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিও ছিল ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস।
হোপের পাশাপাশি ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার ও শেরফান রাদারফোর্ডও। হেটমায়ার মাত্র ১২ বলে করেন ৩৩ রান। আর রাদারফোর্ড ২৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের সম্মিলিত অবদানেই আড়াই শ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ।
জবাবে রান তাড়ায় শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ভারত। সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে দ্রুত এগোচ্ছিল স্বাগতিকেরা। অভিষেক শর্মাকে এক পাশে রেখে মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তবে সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৬ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
স্যামসন ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতি কমে যায়। অভিষেক শর্মা ২৪ বলে ২৯ রান করেন। ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ারও বড় অবদান রাখতে পারেননি। পরে তিলক ভার্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডি পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তিলক ২৫ বলে ৪৩ এবং নিতিশ ২০ বলে ৪১ রান করলেও দলের জয় নিশ্চিত করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানেই থামে ভারতের ইনিংস।
ভারতের রান তাড়ায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান কেমো পল। ৪১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই পেস অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে একাধিকবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার হলেন ২৮ বছর বয়সী পল।
হোপের ব্যাটিং আর পলের বোলিংয়ে সিরিজে নতুন করে প্রাণ ফিরেছে। এখন অপেক্ষা বেঙ্গালুরুর শেষ ম্যাচের, যেখানে নির্ধারিত হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে সিরিজ জিতবে কে।
দৈনিক রূপালী চট্টগ্রাম