ধীরে ধীরে ‘সুনামি’ হয়ে উঠছে এআই, বড় ঝুঁকিতে শ্রমবাজার

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-12T18:15:00.000Z

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখতে সহায়তা করছে। এ বিনিয়োগ থেকে এশিয়ার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেলেও এর ফলে শ্রমবাজার, করব্যবস্থা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, এআইয়ের প্রভাব ধীরে ধীরে এমন এক ‘সুনামি’ হয়ে উঠছে, যা শ্রমবাজার, করব্যবস্থা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

জর্জিয়েভা জানান, এআই খাতে বিনিয়োগের উত্থানের ফলে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। 

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিনে জর্জিয়েভা বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিকে নিচের দিকে টানলেও এআইয়ের কারণে অর্থনীতি নতুন গতি পাচ্ছে। আর সেই গতিই বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

চাকরির ওপর এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের কারণে পরিবর্তিত, নিম্নতর দক্ষতানির্ভর কিংবা বিলুপ্ত হতে পারে। উন্নত অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এ হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এর ফলে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর পরিবর্তন আসবে। এমনকি সরকার কীভাবে কর আদায় করবে, তাতেও প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতিতে শ্রমের পরিবর্তে মূলধনের ভূমিকা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জর্জিয়েভা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটির ১০ শতাংশ চাকরিতে ইতোমধ্যে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার প্রয়োজন হচ্ছে।

একদিকে নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাকরি কমছে, অন্যদিকে নির্মাণ খাত ও ডেটা সেন্টারের মতো তুলনামূলক কম বেতনের দুটি খাতে চাকরি বাড়ছে।

এআইকে রূপান্তরকারী প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মানুষের কাজ করার পদ্ধতি থেকে শুরু করে জীবনযাপনের ধরন পর্যন্ত আমূল বদলে দিচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, এখন প্রতিদিন সকালে একটি এআই সহকারী তাকে তার দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে ৩০ সেকেন্ডের একটি বার্তা দেয়।

জর্জিয়েভা বলেন, এআই সরবরাহব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে এআই অবকাঠামো তৈরিতে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী অনেক প্রতিষ্ঠান এশিয়ায় অবস্থিত। এ প্রসঙ্গে তিনি এবারের বার্ষিক বৈঠকের আয়োজক দেশ থাইল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেন।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এ সপ্তাহের বৈঠকে সংস্থাটির ১৯১টি সদস্যদেশের অর্থনৈতিক কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৮ হাজার মানুষের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। 

একই অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম বলেন, এআইয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া তরুণদের চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকারগুলোর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের খুব দ্রুত একটি বিশেষ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। আর তা হলো, কর্মজীবনের প্রথম ধাপ স্নাতক হওয়ার পর প্রথম চাকরি এখন কম চাহিদার মুখে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এআইয়ের কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নতুন বৈষম্য তৈরি হতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক থাকতে হবে।

থারমান বলেন, এআইয়ের বিষয়ে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে এটি বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। তাই এআই ব্যবহার করে ভালো চাকরি সৃষ্টি এবং এমন কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে, যা মানুষ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এতে এআইয়ের প্রসারের মধ্যেও কর্মীরা তাদের পেশাগত জীবনে উন্নতির সুযোগ পাবেন। 

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, এআইয়ের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তার মতে, এআইয়ের কারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের বেশির ভাগই ঘটতে পারে সেই উন্নত অর্থনীতিগুলোতে, যেগুলো বড় এআই মডেল তৈরি করছে।

তিনি বলেন, উদীয়মান বাজারগুলোতে আমরা বড় ভাষাভিত্তিক মডেল তৈরির পর্যায়ে নেই।

রূপালী চট্টগ্রাম