৪ খুন, শিশু নিখোঁজ ও ডাকাতি: উত্তপ্ত হবিগঞ্জের বানিয়াচং

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-12T17:17:00.000Z

হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চলখ্যাত বানিয়াচং উপজেলায় হঠাৎ বেড়েছে অপরাধ ও সংঘর্ষের ঘটনা। গত এক মাসে উপজেলায় চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি একাধিক সংঘর্ষ, দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও শিশু নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার মন্দরি গ্রামে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জায়দুল মিয়া (২৭) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে নারীদের গোসলের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রজব আলী নামের এক ব্যক্তি মারা যান।

১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের কুর্শা খাগাউড়া গ্রামে হাওরে জমির আগাছা পরিষ্কারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাহির মিয়া (৪৮) নামের এক কৃষক নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের মৃত তাজিম উল্লাহর ছেলে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ছাড়া হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত তোফাজ্জুল মিয়া (৩০) গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ঠাকুরাইন দিঘির পূর্ব পাড় এলাকার মৃত মতিবুর রহমানের ছেলে।

গত ১ অক্টোবর শিশু-কিশোরদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাতের বেলায় ছয় মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

অন্যদিকে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছে উপজেলার উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ আলী মিয়ার ১০ বছর বয়সী মেয়ে ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি।

এ ছাড়া উপজেলা সদরে ইতালিপ্রবাসী ফুল মিয়ার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তবে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক অপরাধের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। নিখোঁজ শিশু মীমকে উদ্ধার এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, এ এলাকার মানুষের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার প্রবণতা কিছুটা বেশি। তবে পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু মীমের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এখনো তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রূপালী চট্টগ্রাম