মৃত্যুর আগে শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন নাসরুল্লাহ বদর
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-12T17:05:00.000Z
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী নাসরুল্লাহ বদর। ফোন করেছিলেন পরিবারের সদস্যদের, কিন্তু মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করতে পারেননি। এরপর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন তার বড় ভাই জানতে পারেন, হামলায় আর বেঁচে নেই নাসরুল্লাহ।সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, ৩৭ বছর বয়সী নাসরুল্লাহ পেশায় শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম ছিলেন। ৪৪ জন বাংলাদেশির একটি ওমরাহ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। গত শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর জেদ্দাগামী আরেকটি ফ্লাইটের জন্য রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন তারা।
সেদিন দুপুরের দিকে বিমানবন্দরে আঘাত হানে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র। নাসরুল্লাহর বড় ভাই মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বদর আরব নিউজকে বলেন, ‘হামলার সময় তারা বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্য ওমরাহযাত্রীদের কাছ থেকে শুনেছি, বিস্ফোরণটি তার ঠিক পাশেই হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর তিনি আমাদের দুবার ফোন করেছিলেন। আমরা ফোন ধরলেও তার কণ্ঠ শুনতে পাইনি। সম্ভবত গুরুতর আহত হওয়ায় তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। পরে আমরা বারবার তাকে ফোন করেছি, কিন্তু আর সাড়া পাইনি।’
সন্ধ্যার দিকে নাসরুল্লাহর ফোন নম্বরটিতে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি। আহসান উল্লাহ বলেন, ‘পুরো এক দিন আমরা তার কোনো খোঁজ পাইনি। বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেছি, সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘এরপর রোববার বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা সেই মর্মান্তিক খবর পাই।’
আরব নিউজ বলছে, শনিবার সৌদি রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ১৩ জনের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন এবং নাসরুল্লাহ তাদেরই একজন। এ হামলায় আরও ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি। তাদের ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। তারা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নাসরুল্লাহ দুই ছোট ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন। এর আগে রিয়াদে পৌঁছানোর পর তিনি স্ত্রী ও মা-বাবাকে ফোন করেছিলেন। নাসরুল্লাহর বড় ভাই বলেন, ‘বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় সে বলেছিল, বাবার পক্ষ থেকে ওমরাহ পালনের ইচ্ছা আছে তার। সে মাকেও তার জন্য দোয়া করতে বলেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ভাই নাসরুল্লাহ বদর খুব ভালো ও দরদি মানুষ ছিল। তার অকালমৃত্যুর মর্মান্তিক খবর শুনে আমাদের পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘রোববার দুপুর থেকে মানুষ আমাদের বাড়িতে আসছেন সান্ত্বনা দিতে। সবাই একই কথা বলছেন—এত ভালো, দয়ালু ও ধর্মপ্রাণ একজন মানুষের শূন্যস্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
রূপালী চট্টগ্রাম