সিলেটের গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কু পি য়ে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-12T14:49:00.000Z

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কু পি য়ে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁকে লাঠি দিয়েও পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কামারগ্রাম এলাকায় একটি বাঁশঝাড়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে তোয়াকুল বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। হারিছ আলী উপজেলার ফুলতৈছগ্রামের বাসিন্দা। কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারিছ আলী জানান, রোববার রাতে তোয়াকুল বাজারে একটি সালিসে অংশ নেন তিনি। সালিস শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে কামারগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সামনে থামে। অটোরিকশা থেকে দা ও লাঠি নিয়ে পাঁচজন নেমে তাঁকে আক্রমণ করেন।

হারিছ আলীর ভাষ্য, হামলাকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুন্ডারে বহুত দিনে পাইছি।’ এরপর তাঁদের একজন দা দিয়ে কো প দেন। আত্মরক্ষায় ডান হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তাঁর কবজির ওপরের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় তাঁর পেছনে থাকা আরেক পথচারী ভয়ে পালিয়ে যান।

তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশের একটি খাদ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হারিছ আলী হামলাকারী হিসেবে একই গ্রামের এমরান, মোহাম্মদ, বুরহান, নজরুল ও অটোরিকশাচালক ইমামের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এমরান, মোহাম্মদ ও বুরহান পরস্পর ভাই এবং এমরানই তাঁকে দা দিয়ে কো প দেন।

হারিছ আলী বলেন, প্রথম কো পেই তাঁর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রক্তক্ষরণের মধ্যে তিনি কাটা হাতটি খুঁজছিলেন। পরে উদ্ধারকারীদের একজন নিজের পাঞ্জাবি দিয়ে তাঁর আহত হাত বেঁধে দেন। স্থানীয় লোকজনকে কাটা হাতটি খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ করলেও সেটি আর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

হামলার পেছনে পূর্ববিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন হারিছ আলী। তাঁর ভাষ্য, গত চৈত্র মাসে তাঁর একটি গরু চুরি হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গরুটি উদ্ধার করেন তিনি। যে স্থান থেকে গরুটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখান থেকে জানতে পারেন, নজরুল গরুটি চুরি করে অন্যত্র রেখেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও নজরুল বিরোধ জিইয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাসপাতালে হারিছ আলীকে দেখতে আসেন তাঁর ভাগনে আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, তাঁর মামা কৃষিকাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। হারিছ আলীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ডান হাত হারানোয় তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

অভিযুক্ত মোহাম্মদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমবার সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত নজরুলের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
রূপালী চট্টগ্রাম