২ রোহিঙ্গার এনআইডি, বিএনপি নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-11T13:39:00.000Z
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় জাল কাগজপত্র ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে দুই রোহিঙ্গার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া ও চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা সাত আসামি হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল (৬৪), উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫), চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯) ও আরিফ মিয়া (৩৪), স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০) এবং রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) ও মোকসেদ আলী (৪৪)। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দুই রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ও এনআইডি পেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গত ২ মার্চ কলমাকান্দায় যোগ দেন। এর আগে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তের নোটিশ দেয়া হয়। ৩১ মার্চ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতে গত ২০ জুলাই কলমাকান্দা নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মীর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কয়েকজনের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সার্ভারে তথ্য আপলোডের কাজ করেন। পরে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। সরেজমিন যাচাইয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
সবশেষ নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমান নামের দুই ব্যক্তির এনআইডি তৈরির ঘটনায় নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে। এ ছাড়া গত ২৯ জুলাই নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল। তিনি বলেন, আমাদের ওয়েবসাইটে ওই দুজনের তথ্য নেই। তারা বাইরে থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন করে নিয়েছে।
কলমাকান্দার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, শুক্রবার রাতে মামলা হওয়ার পর শনিবার ভোরে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রূপালী চট্টগ্রাম।