ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসার, শরীরে যে ৭ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-10T13:53:00.000Z

সারা দিন বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস- আধুনিক জীবনের এসব অভ্যাসের সঙ্গে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। সমস্যা হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও প্রথম দিকে অনেকেই তা টের পান না। শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় বছরের পর বছর অজান্তেই চলতে পারে এই সমস্যা।


কিন্তু ফ্যাটি লিভার কি একসময় লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে? কোন পর্যায়ে এই রোগ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে? হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেরাদুনের কৈলাশ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট চিকিৎসক শাশ্বত তিওয়ারি। তার মতে, ফ্যাটি লিভার হলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। তবে লিভারে প্রদাহ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি হচ্ছে কি না, তা বোঝা জরুরি।

ফ্যাটি লিভার কীভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

আরও পড়ুন
ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খাওয়া কি কিডনি নষ্ট করে, চিকিৎসকের পরামর্শ  
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খাওয়া কি কিডনি নষ্ট করে, চিকিৎসকের পরামর্শ  
লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সমস্যায় অনেকেরই কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারে জমে থাকা চর্বি থেকে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় স্টিয়াটোহেপাটাইটিস। প্রদাহ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে লিভারের টিস্যুতে ক্ষত বা দাগ তৈরি হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় ফাইব্রোসিস। ক্ষতি আরও বাড়লে তা সিরোসিসে রূপ নিতে পারে। আর সিরোসিস হলে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

চিকিৎসক শাশ্বত তিওয়ারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগটি কতটা এগিয়েছে এবং লিভারে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছে কি না। তবে মনে রাখতে হবে, ফ্যাটি লিভার থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির লিভারে গুরুতর ক্ষতি হয় না। আবার সিরোসিস না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসার হতে পারে।
ফ্যাটি লিভার কিংবা লিভার ক্যানসার দুটিরই প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। তবে এগুলো স্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

১. ওজন কমে যাওয়া

খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি অল্প সময়ে ওজন কমতে থাকে, বিষয়টি অবহেলা করবেন না। অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস লিভারের সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে।
২. খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া

আগের মতো খেতে ইচ্ছা না করা, অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি কিংবা দীর্ঘদিন ক্ষুধামন্দা থাকলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে এর সঙ্গে ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যথার কারণ লিভারের সমস্যা ছাড়াও অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
ব্যথার কারণ লিভারের সমস্যা ছাড়াও অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত


৩. দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

পেটের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বা বারবার ফিরে এলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। ব্যথার কারণ লিভারের সমস্যা ছাড়াও অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা হতে পারে। তাই নিজে থেকে রোগ নির্ধারণ না করে পরীক্ষা করানো জরুরি।

৪. পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অস্বস্তি

লিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত। ওই স্থানে বারবার ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। তবে এই ধরনের ব্যথা মানেই লিভার ক্যানসার নয়।

৫. পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

পেটের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা পেটে তরল জমার কারণে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। উন্নত পর্যায়ের লিভার রোগে এমনটা হতে পারে। হঠাৎ পেট ফুলে গেলে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট সঙ্গে থাকলে, দ্রুত চিকিৎসা নিন।

৬. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে তাকে জন্ডিস বলা হয়। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া ছাড়াও পিত্তনালির সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে জন্ডিস হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

৭. অস্বাভাবিক ক্লান্তি

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, শরীরে শক্তি না পান বা দৈনন্দিন কাজে আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য না থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন। ক্লান্তির অনেক কারণ থাকতে পারে; দীর্ঘস্থায়ী হলে পরীক্ষা করে কারণ জানা দরকার