প্রতিষ্ঠার ৭ দশকেও বহির্বিভাগে হয়নি বিশ্রামাগার, রোগী নিয়ে ভোগান্তিতে স্বজনরা
প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-10T13:37:00.000Z
প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে নির্মাণ হয়নি একটি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। যুগের পর যুগ একটি পুরোনো ছোট ভবনে চলছে বহির্বিভাগের কার্যক্রম। নেই বসার বা বিশ্রাম করার আলাদা কোনো ভবন। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে আবার কখনো গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের বয়োবৃদ্ধ আব্দুল লতিফের সঙ্গে। তিনি জানান, মানসিক রোগে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালে। গত মঙ্গলবার রওনা হয়ে পাবনায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যাওয়ায় রাত কাটানোর মতো জায়গা পাননি। পরে বাধ্য হয়ে হাসপাতালসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় ছেলেকে নিয়ে রাত কাটান তিনি। এটি সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগের। সকালে বহির্বিভাগে আসেন চিকিৎসক দেখাতে।
শুধু আব্দুল লতিফই নন, তার মতো আরও শতাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানসিক রোগীদের নিয়ে চিকিৎসা করাতে পাবনা মানসিক হাসপাতালে আসেন স্বজনেরা। কেউ মধ্যরাতে, কেউ ভোররাতে পাবনায় পৌঁছে কাটান দুর্বিষহ সময়। হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকার বা বিশ্রাম করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে, আবার কখনও গাছতলায় বসে থাকতে হয় তাদের।
খুলনার দিঘলিয়া থেকে রোগী নিয়ে এসেছেন পরিমল কুমার মণ্ডল। তিনি জানান, খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে নেমেছেন রাতে। রোগী নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে স্টেশনেই রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। সকালে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসার পর এখানে বসার বা বিশ্রাম নেয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। যদি একটি বিশ্রামাগার থাকত, তাহলে সবার জন্য উপকার হতো।’
মাগুরা থেকে রোগী নিয়ে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এত দূর থেকে যাত্রা করে এসে এখানে একটু বিশ্রাম নেব, ভালোভাবে বসব—এমন কোনো পরিবেশই নেই। এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সরকার যদি এ বিষয়ে থাকার একটি সুব্যবস্থা করত, তাহলে সবার জন্য ভালো হতো।’
পাবনা মানসিক হাসপাতালের মনোরোগ চিকিৎসক সামিনা আক্তার বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি জরুরি পারিবারিক সচেতনতা। যতদিন পরিবার ও স্বজনেরা সচেতন না হবেন, ততদিন মানসিক রোগীদের নিয়ে ভোগান্তি থাকবে। বর্তমান সময়ে শিশু, কিশোর ও তরুণ—সবাই কমবেশি ডিভাইসে আসক্ত হচ্ছে। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সময় দিচ্ছেন না, দূরত্ব বাড়ছে। ডিভাইস থেকে তাদের দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে।’
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বা তাদের স্বজনদের বিশ্রাম কিংবা থাকার ব্যবস্থা নেই—এ কথা স্বীকার করে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক এ কে এম শফিউল আযম বলেন, ‘পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর করার চিন্তা করছে সরকার। সেই প্রকল্পে একটি আলাদা ওয়ার্ড থাকবে, যেখানে রোগীরা থাকবেন। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে রোগীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন। আর রোগীর স্বজনদের জন্য আলাদা হলরুম বা ডরমিটরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’