সেই পরিত্যক্ত ভবনে ম্যাজিস্ট্রেটের হানা!

প্রধান অ্যাডমিন — 2026-10-06T15:05:00.000Z

নিজ গ্রামে বসতভিটা, পুকুর ও পাকা বাড়ি থাকার তথ্য সামনে আসার পরও নাছিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির সরকারি পরিত্যক্ত বাসভবনে বসবাস করে আসছিলেন মোহাম্মদ ইদ্রিছ। বিষয়টি নিয়ে ‘গ্রামে পাকা বাড়ি, উদ্বাস্ত পরিচয়ে সরকারি বাসভবন দখল’ শিরোনামে দৈনিক পূর্বদেশে সংবাদ প্রকাশের পর এবার ওই ভবনে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। 
অভিযানে ভবনে থাকা তিন পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর নাছিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির রোড নম্বর-২-এর ৫ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা পারভিন তানিয়া। এ সময় তিনি ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা পারভিন তানিয়া বলেন, ‘এখানে যেসব পরিবার আছে, তাদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি খালি করতে বলা হয়েছে। তা না হলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।’
সরকারি সূত্র জানায়, নাছিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ওই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনটি খালি করার জন্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে মোহাম্মদ ইদ্রিছকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি বাসা ছাড়েননি। তাঁর সঙ্গে আরও দুটি পরিবার সেখানে বসবাস করছে।

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি দখলে থাকায় একদিকে সরকার ওই সম্পত্তি থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না, অন্যদিকে সেখানে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও আটকে আছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জিতু পূর্বদেশকে বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা পারভিন তানিয়া সরেজমিনে সেখানে যান। তিনি তাদের এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে বাসাটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত। আমরা সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেব। কারণ যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

মোহাম্মদ ইদ্রিছের দাবির বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তিনি বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত যেতে চাইছেন না। তবে ওই বাসায় থাকার জন্য তার নামে কোনো বরাদ্দপত্র নেই বলেও জানান তিনি।

মনিরুজ্জামান জিতু আরও বলেন, ‘উনি যে সেখানে আছেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো রাজস্বও আসছে না। আবার আমরা প্রকল্পের কাজও করতে পারছি না। ফলে সরকারের কোটি টাকার সম্পত্তি পড়ে আছে এবং প্রকল্পের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।’
তিনি জানান, বাসাটি খালি করার বিষয়ে আদালতের রায়ও রয়েছে। ওই রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার কথা। এরপরও সেখানে বসবাস অব্যাহত রয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা খালি না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রশাসন যদি উচ্ছেদে যায়, তাহলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে উচ্ছেদ করা কঠিন।’

অভিযানের সময় মোহাম্মদ ইদ্রিছ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাকে উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। আদালতের আদেশের কারণে তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রশাসনের নির্দেশের পরও ভবন ছাড়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিছ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একেক সময় একেক কথা বললে আমরা কোথায় যাব? কালকে উনারে যে অফিস থেকে বলছে যে উচ্ছেদটা হবে না। আজকে এখানে লোকজন আইসা অভিযান চালাচ্ছে- বাটপারির একটা সীমা থাকা উচিত। এগুলো সব নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব করছেন। টাকা যেদিকে দেয়, সেদিকে উনি সব করছেন, বাটপার একটা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বিকল্প বাসা দিলে আমি সরে যাব। বিকল্প বাসা না দিলে আমি কোথায় যাব? ফ্লাইওভারের নিচে যাব? বিকল্প বাসা আমাকে দিলে আমি চলে যাব।’

তবে তার এ দাবির বিপরীতে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই ভবনে থাকার জন্য তার নামে কোনো বরাদ্দপত্র নেই। বরং ভবনটি খালি করার বিষয়ে আদালতের রায় রয়েছে।